অধরা মাধুরী
(বর্ণময় অন্তরালে)
© সংরক্ষিত
সুপ্রতীক অরূপ ঘোষ
ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৪-৬

সুবুদ্ধি অধরার লেখা পত্রগুচ্ছ পড়ছে আর অবাক হয়ে ভাবছে একি নতুন খেলা ঈশ্বর শুরু করালেন তাঁকে দিয়ে! যদি এই ছিল মনে কেন ঈশ্বর তাকে এতদিন দূরে রেখেছিলেন! এ কেমন খেলা ঈশ্বরের? অধরা লিখে চলেছে তার হাত ধরে? অধরা সত্য তবু সে নিজে লেখেনা! অধরার কথা বলতেই হবে কারণ তার জীবনের ফোয়ারার বদ্ধ মুখ খুলেছে দীর্ঘ সতের বছর পরে। সে আজ উন্মুক্ত হতে চাইছে। অধরা সত্যিই থাকে এক বর্ণময় অন্তরালে...
খানচাচার সাথে আমার ছোট্টবেলার সেই দিন গুলির কথা আমাকে কেমন যেন অবশ করে দেয়। আমার পড়া ও সচক্ষে দেখা কাবুলিওয়ালার মধ্যে মিল আছে বললে কম বলা হয়, এক্কেবারে হুবুহু এক। যদিও শেষের দিকে নতুন সংজোযন হয়েছে যা আসল কাবুলিওয়ালায় ছিলনা। এই সংযোজন হতে পারে রবিঠাকুর যদি জানতেন তাহলে হয়ত কাবুলিওয়ালা পার্ট টু লিখে ফেলার ভাবনা তাঁর মাথায় উঁকি দিয়ে যেত। সত্যি কথা বলতে কি আমার জীবনে রবিঠাকুরের সেই রচনার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছিল। সেই বৃদ্ধ কাবুলিওয়ালার ভালবাসার প্রকাশ ছিল নীরব। কিসমিস, আখরোট ইত্যাদি ঝুলিতে ভরে একগাল হেসে সেই সৌম্য সুদর্শন মানুষটি যখন এসে দাঁড়াত, মনে হত, সে যেন আমার কতকালের চেনা। ভাষা ধর্ম্ম সমাজ কোথাও কোনও মিল নেই, তিনি আমার কেউ নন, আসতেন এদেশে ব্যবসা করতে আর এসেই আমার জন্যে কত কি বের করতেন এক এক করে তার ঝোলা থেকে। পরম স্নেহে আমাকে কাছে টেনে নিয়ে কত কথা