মার্ক টোয়েন (Mark Twain)
ধারাবাহিক (পর্ব ২১-৩০)
-তিমুর
© সংরক্ষিত
পর্ব ২১
আঠারোশো চুয়াত্তর সালের শরতকালে হার্টফোর্ডের নতুন বাড়িটা তৈরী হল । চমৎকার একটা ছায়াঘেরা জায়গা তৈরী হয়েছিল বাড়িটা । বাড়িটার চেহারা ছিল একেবারেই নতুন ধরনের, বিংশ শতাবন্দীর কোনো সমালোচক বলতে পারেন "স্টিমবোট গথিক" । কোয়ারি ফার্মের স্টাডির মতই অনেকটা স্টিমার স্টিমার ভাব ছিল বাড়িটায় । কিচেনটা ছিল একেবারে রাস্তার উপরে, সে যুগের কেতা মাফিক পিছনে নয় । মার্ক টোয়েনের যুক্তি ছিল রাস্তাটা দেখার চাকর বাকরদের আর পুরো বাড়িটা ঘুরে আসতে হবে না !
অতিথি-অভ্যাগতদের ভীড়ে বাড়িটা সবসময়ে গমগম করত । চার্লস ডাডলি ওয়ার্নার, আংকল টমস কেবিনখ্যাত হ্যারিয়েট বিচার স্টো ও তাঁর স্বামী ডক্টর স্টো, অলিভার টুইচেল এরা সবাই খুব কাছেই থাকতেন । বৈঠকখানার ফায়ারপ্লেসের উপরে লেখা ছিল, 'অতিথি, অভ্যাগতরাই ঘরের শোভা- "The ornament of a house is the friends that frequents it" |'
জোসেফ টুইচেলের সাথে মার্ক টোয়েন অনেক দূর পথে হাঁটতে গেছেন । একবার তাঁরা এলমিরা থেকে বস্টন এই প্রায় একশো মাইল পথ হেঁটে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন । হেঁটে হেঁটে তাঁরা ওয়েস্টফোর্ড পর্যন্ত গিয়ে তারপরে বাকিটা ট্রেনে গেলেন । উপায় ছিল না, পায়ে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল । বস্টন থেকে ফেরার পথে মার্ক টোয়েনের মনে হলো মিসিসিপি নদী নিয়ে একট আবই করলে বেশ হয় । আসলে টুইচেলকে মিসিসিপি নদীর পাইলট থাকার সময়ের গল্প শোনাচ্ছিলেন যখন টুইচেল বললেন একটা বই করে ফেলতে ।
জানুয়ারী মাসে 'আটলান্টিক' পত্রিকায় প্রথম কিস্তি লিখলেন 'রিভার চ্যাপ্টার্স' । সবগুলো স্কেচ এক হয়ে 'লাইফ অন দ্যা মিসিসিপি' বই আকারে প্রকাশ পাবে । বইটার প্রথম 'ওল্ড টাইমস' অধ্যায়টাই সাত সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে । বই আকারে বের হবে সাত বছর পরে । রিভার্স চ্যাপ্টার লেখার ফাঁকে ফাঁকে টম সয়্যারের লেখা চলতে লাগল । 'স্কেচেস অভ নিউ অ্যান্ড ওল্ড' বের হলো ১৮৭৫ সালে । এক বছর পরে টম সয়্যার । খুব ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তখণ স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স ।
মার্ক টোয়েন তখন এতোটাই বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন যে অনেক ঠিকানা ছাড়া চিঠি আসত তাঁর নামে-'মার্ক টোয়েন, গড নোজ হোয়্যার,' এরকম ঠিকানায় । বিদেশীরা অনেক সময় চিঠি লিখত 'মার্ক টোয়েন, ইউএস ।' কিন্তু সেগুলো ঠিকই মার্ক টোয়েনের হার্টফোর্ডে বাসায় পৌঁছে দিতো ডাকপিয়ন ।
বেশির ভাগ সময় টোয়েন এলমিরার পাহাড়ের উপর কোয়্যারি ফার্মে কাজ করতেন । এখানে ছিল গরু-ঘোড়া-আপেলের বাগান সহ বিস্তৃত মাঠ । এখন সুজি আর ক্লারা এসেছে সংসারে । শীতকালে অবশ্য এত বেশী দাওয়াতে অ্যাটেন্ড করতে হতো যে মার্ক টোয়েনের আর খুব বেশী লেখা হতো না ।
মাঝেই সুজি আর ক্লারা তাদের বাবাকে একটা ছবি দেখিয়ে হুকুম করত ছবির সাথে খাপ খায় এমন একটা গল্প বানিয়ে দিতে । ওদের ঘরের দেয়ালে একটা ছবি ছিল যার নাম 'এমেলিন' এবং ছবিটা হাক ফিনের মধ্যেও চেহারা দেখাবে । ইনোসেন্ট অ্যাব্রড বইটা ছাপা হয়েছিল ১৮৬৯ সালে। কিন্তু আবার পাঠকরা মার্ক টোয়েনের কাছ থেকে একটা ভ্রমনের বই দাবী করতে লাগল ।
1878 সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সালে তাই মার্ক টোয়েন ইউরোপ ভ্রমনে বের হলেন । অলিভার টুইচেলকেও সাথে নিলেন তিনি । পুরো গ্রীস্মকালটা পায়ে হেঁটে ওঁরা জার্মানীর ব্ল্যাক ফরেস্ট আর সুইজারল্যান্ড চষে বেড়াবেন । অলিভিয়া দুই সুজি আর ক্লারাকে নিয়ে হাইডেলবার্গের শ্লস হোটেলে উঠেছিলেন । বাচ্চাদের জার্মান শেখাতো ওদের জার্মান টিচার । শান্তিতে লেখালেখি করার জন্য হোটেলটা থেকে সামান্য দূরে একটা কামরা ভাড়া করলেন টোয়েন ।পর্ব
-২২
এই ইউরোপ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা কাজে ক্লিমেন্স লিখলেন 'এ ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' বইটা । 'ইনোসেন্ট অ্যাব্রডের' থেকে অনেক পাতলা মেজাজে লেখা বই এটা । টুইচেলকে 'হ্যারি' বানিয়ে দিয়েছেন তিনি বইতে । এতো বেশী ভাঁড়ামি এসেছে যে লেখাটায় ভ্রমন কাহিনীর ছাপ অনেকটাই মরে গেছে । তবু এটা একটা ক্লাসিক টোয়েন । হয়তো এভাবে লিখতেই বেশী পছন্দ করতেন তিনি । হিউমারের বাড়াবাড়ি মার্ক টোয়েনের একটা বড় দোষ (বা গুন) । রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ' এ ট্র্যাভেলস উইথ ডাংকি' অবশ্য এরকমই লেখা । যদিও দু'জনের গন্তব্য ছিল ভিন্ন ।
১৮৭৯ সালের তেসরা সেপ্টেম্বর তাঁরা নিউ ইয়র্কে পৌঁছালেন । প্রায় দেড় বছর বাইরে ছিলেন টোয়েন । কাগজে লিখল টোয়েনের বয়স নাকি বেড়ে গেছে । হতে পারে সত্যি কথা, কারন আমরা এখন মার্ক টোয়েনের বেশির চুলই তখন পেকে গেছে ।
সুইজারল্যান্ডের লসানে গিয়ে পরিবারের সাথে মিলিত হলেন ক্লিমেন্স । তারপরে সবাই ইতালি ঘুরে আবার জার্মানির মিউনিখে উঠলেন । তাঁরা থাকতেন ফ্রাউলাইন ডালভাইনারের 1 নং কার্লস্ট্রাসে, যেখানে 'এ ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' এর পান্ডুলিপি বানাতে ব্যাস্ত ছিলেন টোয়েন । বসন্তকালে তাঁরা প্যারিস হয়ে লন্ডনে পৌঁছালেন ।
দেশে ফিরেই সোজা কোয়্যারি ফার্মে চলে গেলেন ক্লিমেন্স । তাড়াতাড়ি প্রকাশকের কাছে পান্ডুলিপি জমা দেবার ইচ্ছে তাঁর । কিন্তু যে কারনেই হোক, অনেক সময় লাগল বইটা প্রকাশ পেতে । আর তার আগেই বছর দুই আগে লেখা একটা গল্পকে ভিত্তি করে 'প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পপার' উপন্যাসের কাজ শুরু করে দিলেন টোয়েন ।
আসলে এই গল্পের আইডিয়াটা কিন্তু মৌলিক নয় ! বছর দুই আগে শার্লট ইয়ং এর 'দ্যা প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পেজ' গল্পটা পড়ে এটাকে নাট্য রুপ দেবার চেষ্টা করেছিলেন তিনি । শুধু পেজের (পরিচারকের) জায়গায় 'পপার' বা ভিখারী বসিয়ে । কিন্তু সেটা সম্পুর্ন করতে পারেন নি । তিনি খুব 'আধুনিক' একটা গল্প লিখতে চেয়েছিলেন । প্রিন্সের জায়গায় তখনকার প্রিন্স অভ ওয়েলস (রাণী ভিক্টোরিয়ার ছেলে) সপ্তম এডওয়ার্ডকে (১৮৪১-১৯১০) রূপায়িত করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তৎকালীন যুবরাজকে লন্ডনের বস্তিতে এনে ফেললে ইংরেজ পাঠক চটবে ভেবে যোড়শ শতাব্দীর অষ্টম হেনরির দুর্ভাগা পুত্র এডওয়ার্ড টিউডরকে বা ষষ্ঠ এডওয়ার্ডকে (১৫৩৭-১৫৫৩) নায়ক হিসেবে এনে ফেললেন তিনি উপন্যাসে !
আগেই বলেছি ইংরেজ পাঠকের সেন্টিমেন্টকে যে কারনেই হোক দাম দিতেন মার্ক টোয়েন । কিংবা হতে পারে যোড়শ শতাব্দীতে সতেরো বছর বয়সে যক্ষায় ভুগে অকালে মারা যাওয়া কিশোর রাজা এডওয়ার্ডকে, রানী ভিক্টোরিয়ার অপোগন্ড, মাতাল ও লম্পট পুত্রের থেকে অনেক বেশী রোমান্টিক বলে মনে হয়েছিল মার্ক টোয়েনের ।
বরাবরের মতো বইটার প্রথম শ্রোতা হচ্ছে সুজি আর সারা ক্লিমেন্স । এতো দিনে গল্প বোঝার মতো বড় হয়ে উঠেছে ওরা । 'প্রিন্স অ্যান্ড পপার' শেষ হলো যখন, ততদিনে 'এ ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' বাজারে চলে এসেছে । 'ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' ভালই বিক্রি হলো, পঁচিশ হাজার কপি প্রথম বছরে চলি্লশ হাজার ডলার আনল লেখকের পকেটে ।
প
র্ব-২৩
আর 1880 সালে মার্ক টোয়েনের তৃতীয় কন্যা জিন ক্লিমেন্সের জন্ম হল । বাচ্চাকে কোয়্যারি ফার্মে নিয়ে আসা হলো । খামারটা বিড়ালের স্বর্গ ছিল, মার্ক টোয়েনের মেয়েরা বাবার মতই বিড়াল ভক্ত ছিল । অবশ্য বোন্স নামে একটা কুকুরও ছিল খামারে । ক্লিমেন্স কুকুরদের খুব একটা পছন্দ করতেন না ।
১৮৬৯-১৮৭৭), জেনারেল ইউলিসিস গ্র্যান্ট এলেন হার্টফোর্ড শহরে । গ্র্যান্টের জন্য সংবর্ধনা সভায় বক্তৃতা দিলেন টোয়েন । গ্র্যান্টের সাথে বন্ধুত্ব জমে উঠল টোয়েনের ।
1880 সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো । গার্ফিল্ডের পক্ষে প্রচারনা চালালেন মার্ক টোয়েন এবং এই জন্য সাবেক ইউনিয়ন পক্ষের সর্বাধিনায়ক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট (
এর আগের বছর শিকাগোতে গ্র্যান্টের জন্মদিনেও বক্তৃতা দিয়েছিলেন মার্ক টোয়েন । অনেক বছর আগে যুদ্ধের সময় মিসৌরির বনে যদি দু'জনের দেখা হত তাহলে মার্ক টোয়েন লেখালেখির জন্য বেঁচে থাকতেন কিনা সন্দেহ আছে! যুদ্ধের সময় দুজন দুই পক্ষের ছিলেন আর টোয়েন দক্ষিনের লোক, যুদ্ধে তাঁদের পরিবার পরাজিত কনফেডারেট পক্ষকে সমর্থন করেছেন । সুতরাং এই বন্ধুত্ব খানিকটা বিস্ময়কর ।
সে যাই হোক 'দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পপার' বের হতে হতে ১৮৮১ এর শেষ হয়ে এল । ছাপল বস্টনের অসগুড । লিভি কাহিনীটাকে পছন্দ করেছিলেন খুব এবং দাবী করলেন এটার অঙ্গ -সজ্জায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে । সুন্দর রঙীন ছবিসহ, ঝকঝকে কাগজে বাঁধাই হয়ে বেরোল বইটা । মার্ক টোয়েনের কোনো বই এত সুন্দরভাবে ছাপা হয় নি । বইয়ের কাহিনীটাও তিনি এতদিন ধরে যা লিখে এসেছেন তার বাইরের পটভুমিতে লেখা । তিনি বইটাকে, সুজি আর সারা ক্লিমেন্সকে উৎসর্গ করেছেন ।
বইটা যাকে বলে একদম নিঁখুত রোমান্টিক ধাঁচের নিটোল উপন্যাস । প্রথমে যাঁরা পড়েছিলেন তাঁরা ভেবেছেন ভিতরে নিশ্চয় কোনো স্বভাবসুলভ তামাশা করেছেন মার্ক টোয়েন । অনেকেই জিগ্যেসই করে ফেলেছিলেন 'হোয়্যারস দ্য জোক?' কিন্তু না, ঠাট্টা করার জন্য এ বই লেখেননি টোয়েন যদিও প্রচলিত সমাজ সম্বন্ধে ব্যাঙ্গ সুস্পষ্ট । টম স্য়্যারের মতই আরেকটা 'পারফেক্ট' বই ।
এ সময় খ্যাতি ও ধনসম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে অনুকুল অবস্থায় ছিলেন মার্ক টোয়েন । সুখী পরিবার, কোনো ঋণ নেই, চমৎকার একটা বাড়ি আর খামারের মালিক আর অন্তত ছয়টা বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক । হ্যানিবালের সেই ভবঘুরে বাল সৌভাগ্যের মধ্য গগনবে অবস্থান করছেন তখন । মিসেস ক্লিমেন্সের নিজেও মস্ত সম্পদের মালিক ছিলেন । তাঁর বাবা, কয়লা ব্যাবসায়ী জারভিস ল্যাংডন যে এলমিরার সবচেয়ে ধনী লোকদের একজন ছিলেন তা তো আগেই বলেছি ।
হার্টফোর্ডের বাড়িটা সারাদিন গমগম করত মানুষজনে । এতো বেশি লোক আসত যে মার্ক টোয়েন এবকবার বলেছিলেন একটা ঘোড়ায় টানা ট্রাম কিনলে ভাল হয়, তাহলে ঘোড়ার গাড়ির পিছনে কম খরচ হবে! । অধিকাংশ দক্ষিনীদের মতই তিনি দরাজদিল-অতিথি পরায়ন মানুষ ছিলেন । এবং দুর্ভাগ্য-জনক ভাবে মার্ক টোয়েন ভুলে গেলেন একজন মানুষ মোটামুটি যতটা উন্নতি করতে পারে ততটা তিনি করেছেন, এবং আর বেশী টাকার পিছনে দৌড়ানো এখন বিপজ্জনক ।প
র্ব-২৪
পূবে রুপার খনি ছিল না , কিন্তু টোয়েন অন্যান্য জায়গায় টাকা ঢালতে লাগলেন, শেয়ার বাজার, অন্যদের আবিস্কার এসবে । একজন লোক একটা স্টিম জেনারেটরের প্যাটেন্ট নিয়ে এলো তাতে নাকি নব্বই ভাগ কয়লা সাশ্রয় হবে । মোটা টাকা ঢাললেন ক্লিমেন্স, এবং নয় ডলারও ফেরত পেলেন না । তারপরে এলো এক স্টিম-পুলি আবিস্কারক, তাতেও মেলা টাকা নষ্ট হলো । শেষমেষ জনৈক ভদ্রলোক এলেন টেলিফোন নামের একটা যন্ত্রের উন্নতি কল্পে লগি্নর জন্য, নাম তাঁর আলেকজান্ডার গ্রায়াম বেল । ততোদিনে মার্ক টোয়েন চালাক (?) হয়ে উঠেছেন, এক পয়সা খাটালেন না তিনি টেলিফোনের পিছনে ! অনেকদিন পরে তিনি লিখেছেন এ ব্যাপারে,
speculation .... I said I didn't want it at any price. He (Bell) became eager; and insisted I take five hundred dollars' worth. He said he would sell me as much as I wanted for five hundred dollars; offered to let me gather it up in my hands and measure it in a plug-hat; said I could have a whole hatful for five hundred dollars. But I was a burnt child, and resisted all these temptations--resisted them easily; went off with my money, and next day lent five thousand of it to a friend who was going to go bankrupt three days later
"I declined. I said I did not want any more to do with wildcat
টেলিফোনের প্যাটেন্ট কিনলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনীদের একজন হতে পারতেন তিনি ।
সাধারনত কোনো ব্যার্থতায় খুব একটা ঘাবড়ে যেতেন না টোয়েন । অকালে পরোলোকগত, দরিদ্র পিতার সন্তান, এগারো বছর বয়স থেকে কাজ করে অভ্যস্ত । দারিদ্রকে কুব কাছের থেকে দেখেছেন ও জয় করেছেন । পশ্চিমে সোনার খনির হদিস পান নি কিন্তু স্রেফ প্রতিভা আর সৃজনশীলতার জোরে বিশাল দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন, প্রতিকুল প্রেমে জিতে নিয়েছেন ধনীর দুহিতা প্রেয়সীকে । একটা প্রজেক্ট ব্যার্থ হলে আরেকটা বই লিখে পুষিয়ে নেবেন । পরোয়া কিসের টাকা খরচের? তিনি তো নিজেই বলেছেন যে তিনি পঁচাত্তর বছর বাঁচবেন । তাহলে তো আরো প্রায় ত্রিশ বছর আয়ু আছে তাঁর!
নো চিন্তা ডু ফুর্তি ।
সে যা হোক, একদিন পত্রিকায় 'রিভার চ্যাপ্টার্স,' উল্টে পাল্টে মনে হলো মিসিসিপি নদীতে আরেকবার যেতে পারলে বেশ হতো । যেমন চিন্তা তেমনই কর্ম, একুশ বছরে মিসিসিপি নদীর কী কী পরিবর্তন হয়েছে দেখার জন্য সেইন্ট লুই থেকে নিউ অর্লিয়ন্স পর্যন্ত একটা স্টিমার যাত্রার কথা ভাবতে লাগলেন তিনি । প্রকাশক অসগুডও সঙ্গে যাবেন ঠিক হলো । অসগুড একজন স্টেনোগ্রাফারের ব্যাস্থা করলেন যে সব টুকে রাখবে ।
সেইন্ট লুইতে গিয়ে ছদ্মনামে স্টিমার 'গোল্ড ডাস্টে' চাপলেন টোয়েন । কিন্তু কোনো ফায়দা হলো না । স্টিমারের লোকজন ঠিক চিনে ফেলল তাঁকে । পাইলট যাবার হাউজে আমন্ত্রণ এল । যাত্রার বেশির ভাগ সময় পাইলটের সাথে কথা বলে কাটালেন তিনি ।
কায়রো শহরে এসে নদীটা অনেক চওড়া হয়ে গেছে, তখন মিসিসিপি পুরো ভরা । মাঝ নদীতে যেখানে কোনো কিছুতে ধাক্কা লাগার ভয় নেই সেখানে মার্ক টোয়েনকে হাল ধরতে দিয়ে নিজে বিশ্রাম নিতে পাইলট । হুইল ধরে টোয়েনের মনে হলো না যে আসলে এতো গুলো বছর কেটে গেছে । বিশেষ করে সকাল বেলার ওয়াচে দাঁড়াতেন টোয়েন ।
নদীটা অনেক জায়গায় পাল্টে গেছে । খরস্রোতা চিরযৌবনা মিসিসিপি নদীর পার ভেঙ্গে, নতুন চর গড়ে উঠে যে সে সবসময়েই ভাঙ্গা-গড়ায় ব্যাস্ত থাকবে তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে? আর মানুষও তো এই একুশ বছরে